এসএইচএম
গোলাম সরওয়ার
 |
| পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাবে বিপন্ন প্রকৃতি |
উদ্ভিদ, প্রাণী, অনুজীব, মাটি, পানি, আলো, বাতাস
ইত্যাদি উপাদানের সমন্বয়ে পরিবেশ।
প্রতিটি উপাদানই পরিবেশের ভারসাম্য
রক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করে থাকে। ভৌতিক, রাসায়নিক
ও জৈবিক কারণে এ উপাদানগুলোর মধ্যে যে কোনো একটির পরিবর্তন ঘটলে
সামগ্রিক পরিবেশের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে পরিবেশ দূষিত হয়।
কার্বন-ডাই অক্সাইড, সিএফসি গ্যাস, মিথেন,
কার্বন মনোক্সাইড, সালফার
ডাই অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড,
নাইট্রোজেন অক্সাইড, তেজস্ক্রিয়
পদার্থ, রাসায়নিক পদার্থ ধোঁয়া,
ধূলিকণা,
ময়লা-আবর্জনা, বর্জ্য পদার্থ ইত্যাদি পরিবেশকে দূষিত করে। ভৌতিক, রাসায়নিক, জৈবিক
ও মানবসৃষ্ট কারণে পরিবেশ দূষণকারী পদার্থ অধিক হারে বৃদ্ধির জন্য পরিবেশ
দূষিত হয় এবং ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এই ভারসাম্যহীন পরিবেশের কারণে জলবায়ুর
পরিবর্তন ঘটে। আর এ কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
দীর্ঘ সময় খরা, ঝড়, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অসময়ে
বৃষ্টি, শিলা বৃষ্টি, বন্যা,
ভূমিধস,
শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়। পরিবেশ দূষিত হওয়ার কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, উত্তরাঞ্চল, শিল্পাঞ্চল, পাহাড়-বনাঞ্চল
ও নদ-নদীগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের উপকূলীয়
অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- ঝড়,
ঘূর্ণিঝড়,
জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার কারণে বাঁধ, বেড়িবাঁধ
ও পানি ব্যবস্থাপনার জন্য
অবকাঠামোগুলো ধ্বংস হয়ে ফসলের জমিতে লবণ
পানি প্রবেশের মাধ্যমে কৃষি জমির
লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়ে মাটি দূষিত
হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত মাটিতে
চাষযোগ্য লবণসহিঞ্চু ফসলের জাত কম থাকার
কারণে শস্য উৎপাদনে কাক্সিক্ষত
লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। বর্ষা
মৌসুমে আমন ধান চাষ করা সম্ভব হলেও
বাকি মৌসুমগুলোতে হাজার হাজার হেক্টর
জমি, যেমন- রবি মৌসুমে ৩৫ ভাগ,
খরিফ-১ মৌসুমে ৫৭ ভাগ ও
খরিফ-২ মৌসুমে ৭ ভাগ ফসলি জমি লবণাক্ততার কারণে অনাবাদি থেকে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত লবণাক্ততা উপকূলীয় অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
অপরদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলে নভেম্বর মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত
প্রায় হয় না বললেই চলে। এ অঞ্চলে স্বল্প বৃষ্টিপাত,
খরা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির
কারণে মাটি শুকিয়ে শক্ত ও কঠিন আকার ধারণ করছে। এ কারণে মাটির অভ্যন্তরের
অনুজীবের কার্যাবলী লোপ পেয়ে মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে
মাটি শক্ত ও কঠিন হওয়ার কারণে ফসল চাষের জন্য প্রচুর পরিমাণে ভূ-গর্ভস্থ
পানির প্রয়োজন হচ্ছে। সেচকার্যে অধিক পানি ব্যবহারের কারণে ভূ-গর্ভস্থ
পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং পানির মজুত ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে যা
জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।