‘শত কোটি জনের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করি না নিঃস্ব’
গত ৫ জুন পালিত হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস।এ বছরের
দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শত কোটি জনের অপার স্বপ্ন,
একটি বিশ্ব, করি
না নিঃস্ব’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন
করবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা এবং পরিবেশ ও
বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পৃথক
বাণী দিয়েছেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব
বান কি মুনও বাণী দিয়েছেন।
পরিবেশ দিবস উপলক্ষে
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দেশের সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এজন্য
জন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বোধ যেমন জাগিয়ে তুলতে হবে, তেমনি
আইনের পরিপালনও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে
সরকারের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়সহ সকল
মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব
পরিবেশ দিবস উদ্যাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার
হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বর্তমানে সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
মোকাবেলার জন্য এ নিয়ে আলোচনা ও গবেষণাকে যেমন উত্সাহিত করেছে, তেমনি
একটি কর্মকৌশলের আলোকে অভিঘাতের প্রশমন ও অভিযোজনের লক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করছে। জলবায়ু
পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশ পৃথিবীব্যাপি
দূষণবিরোধী উদ্যোগ এবং ক্ষতিপূরণের আন্দোলনেও সোচ্চার ভূমিকা রাখছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন
এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাব সম্পর্কে
সচেতন হয়ে সুন্দর পৃথিবী গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন,
টেকসই উন্নয়নের প্রধান
উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটানো তবে তা পরিবেশের ক্ষতি করে
নয় এবং কোন ভাবেই ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রয়োজনকে পাশ কাটিয়ে নয়।
১৯৭২ সালে জাতিসংঘের
মানবিক পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) উদ্যোগে প্রতি বছর ৫ জুন সারা বিশ্বের
১০০ টিরও বেশি দেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়।
জেনে হোক না বুঝে হোক নগর সভ্যতার
বিকাশের নামে শিল্প-কলকারখানা গড়তে গিয়ে আমরা মানুষরা প্রতিনিয়ত নষ্ট করছি
পরিবেশের ভারসাম্য। এভাবে চলতে থাকলে মানবসভ্যতা শুধু বিপন্ন নয়,
হারিয়ে যাওয়ার আশংকাও অমূলক নয়। এই কথা মাথায় রেখেই পরিবেশের
ভারসাম্য রক্ষায় গণ-সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণের
লক্ষ্যে সর্বপ্রথম বড় আকারের আয়োজন হয় ১৯৭২ সালে। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৭২
সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে পরিবেশ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি
বছরের ৫ জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’
পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রথম ‘বিশ্ব
পরিবেশ দিবস পালন করা হয় ১৯৭৩ সালে।
জাতিসংঘ
পরিবেশ প্রোগ্রাম ( ইউএনইপি) প্রতি বছর ৫ জুন সংস্থার সদস্য দেশগুলোতে বিশ্ব
পরিবেশ দিবস পালন করে থাকে। United Nations
Environment Programme ( ইউনাইটেড ন্যাশনস ইনভারনমেন্ট প্রোগ্রাম)
এর শ্লোগান হলো environment for development
(
উন্নয়নের জন্য পরিবেশ)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রতি বছর পরিবেশ দিবসে একটিকে সামনে
রেখে নতুন নতুন প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়। সংস্থার ওয়েব সাইটে (http://www.unep.org/wed/2015_slogan/)
দেখা যায় ২০১৫ লিখে তার নীচে লেখা: টাইম ফর গ্লোবাল এ্যাকশন ফর পিপল এন্ড
প্ল্যানেট। প্রতিপাদ্য: Seven
Billion Dreams.One Planet./ Consume with Care. অর্থাৎ ৭শ‘কোটি মানুষের স্বপ্ন
একটাই পৃথিবী ,
যত্নের
সাথে ভোগ করি,
ওপর
ভোট নেয়া হচ্ছে।ইউএনইপির
বাংলাদেশ চেপ্টার এর বাংলা করেছে,‘শত কোটি জনের অপার স্বপ্ন, একটি
বিশ্ব, করি না নিঃস্ব’। অনেকে এই শ্লোগানকে এর সংক্ষেপ করে বলছেন, sustainable lifestyles. অর্থাৎ টিকসই
জীবনধারা। অর্থাৎ আসুন,দীর্ঘ
দিন টিকে বা বেঁচে থাকার মতো করে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন করি।

