Powered By Blogger
Globalisation লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Globalisation লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০১৫

আগ্রাসী বিশ্বায়ন : পরিবেশের শত্রু



আনোয়ার চৌধুরী
একবিংশ শতাব্দীতেও বিশ্বায়নের সংজ্ঞা নিয়ে সমাজ চিন্তাবিদদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বায়ন কি ধনতান্ত্রিক সমাজের বিশ্বব্যাপী আগ্রাসন? অথবা ম্যাকডোনারাইজেশন, নাকি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন? কেউ কেউ আবার সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ, বিশ্ব-বৈশ্বিকগ্রাম এসব প্রপঞ্চ দিয়েও ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্বায়নকে। বিশ্বায়ন একটি পুরনো প্রত্যয় এবং শুধু পশ্চিমাকরণ নয়। বিশ্বায়নের ঢেউয়ের ধারাবাহিকতায় জ্ঞানের বিকাশ ধর্মের প্রসার, মানুষ পণ্য, প্রযুক্তি ও ভাষার গতিশীলতায় ঊনবিংশ শতাব্দীর বহু আগেই শুরু হয়েছে। যেমন সীমান্ত ছাড়িয়ে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অন্য ধর্ম অথবা চীনে ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটে অথবা ইংরেজি সর্বজনীন ভাষায় পরিণত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে আধুনিক রাষ্ট্র, অলিম্পিক, ইউরোপের বাইরে প্রসারিত হতে থাকে। আন্দ্রে গুন্ডার ফ্রাংক এই সময়েও বলেছেন, বিশ্বায়নের কেন্দ্রে ছিল চীন ও ভারত। বিশ্বায়নের ইতিবাচক দিক হিসেবে বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, দারিদ্র্য উপশম-নিরসন ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারকে ইঙ্গিত করা হয়। আর এর নেতিবাচক দিকগুলোর উল্লেখ বহু পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত_সেগুলো হলো সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা, দাসত্ব, সমাজে চরম অসমতা সৃষ্টি। তবে একবিংশ শতাব্দীতে এসে পশ্চিমা বিশ্বের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব হতে দেখা যায়। উদ্ভব হয় বহুজাতিক কম্পানির। বাজার ব্যবস্থার নতুন মাত্রা ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোকে শক্তিশালী করে তোলে। উত্তর-আধুনিকতাবাদী অনেক তাত্তি্বক তাই নতুন করে সমাজ সম্পর্কে তত্ত্ব দিতে শুরু করেন। বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে এ সময়ে ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারমাধ্যম। আর এ মাধ্যমে বিভিন্ন আদর্শ ও মতবাদ পুরো বিশ্বকে জয় করে নিচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে যেসব সংকট তৈরি হচ্ছে, তার পেছনে কোনো বিশ্বযুদ্ধ নেই বা তা সমাধানের জন্য কোনো একক শক্তি নেই, বরং সব নিয়ন্ত্রণ করছে প্রযুক্তি ও প্রচারনির্ভর বাজারব্যবস্থা। সংকট নিরসনে রাষ্ট্র যেন আর নিজের অবস্থানে থাকতে পারছে না। বিশ্বায়ন একটি প্রাচীন প্রক্রিয়া এবং তার কিছু সুফলও আছে। কিন্তু একটি রাষ্ট্র ও নাগরিকদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব যে বিশ্বায়নের ফলে হুমকির মুখে পড়ছে, সে প্রশ্ন কি আজও আমাদের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে না?