Powered By Blogger

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০১৫

সংবাদ বা খবরের উৎস এবং রিপোর্টারের সোর্স





প্রশিক্ষক: মোঃ হারুন অর রশীদ
তারিখ: ১৯ জুন ২০১৫

উৎস বা সোর্স জানার আগে সংবাদ বা নিউজ কি তা আগে জানতে হবে।
সংবাদ বা খবর কি ?
News  অর্থ Something is New. মানে নতুন কিছু আভিধানিক অর্থে সংবাদ হলো কোন সাম্প্রতিক ঘটনা বা প্রস্তাব সম্পর্কিত  বিবরণ।
হ্যারিসন এবং জনসন এর দি কমপ্লিট রিপোর্টার (The complete Reporter )বইয়ে সংবাদের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে News is an account of event, or a fact or opinion  which interest people. অর্থাৎ সংবাদ হচ্ছে  একটি ঘটনা, বিষয় বা মতামতের বিবরণী যার প্রতি জনগণের আগ্রহ আছে ( আগ্রহ নিয়ে পড়ে )
তারা আরো লিখেছেন, Anything that enough people want to read is news, provided is not violate the canon of good taste and the laws of libel. অর্থাৎ সংবা হচ্ছে এমন কিছু যা জনগণ পড়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। তবে সেই বিষয়গুলো অবশ্যই শালীন হবে এবং মানহানি আইন লঙ্ঘন করবে না
New York Sun এর সম্পাদক জন বি ব্যারেট একজন কাব ( নবিশ)  রিপোর্টারকে কি বলেছিলেন  কুকুরের কামড় সংক্রান্ত উদাহরণটি নিশ্চয় মনে আছে। ( ক্লাসে বলা হবে।)
আর্থার ক্রিসটেন সেলে মতে, '‌যার মধ্যে অভিনত্ব আছে সেটাই খবর।'
থমসন ফাউন্ডেশনের মতে 'সংবাদ কখনো সহজে উদঘাটিত হয় না সংবাদ হচ্ছে এমন কিছু যা মানুষ লুকিয়ে রাখতে চায়, বাকী সবটা বিজ্ঞাপন।'
সংবাদের প্রকার
সংবাদের প্রকার একটি ব্যাপক অর্থবোধক বিষয় বিষয়, স্থান, কাল,গঠন বিভিন্নভাবে খবরের প্রকারভেদ করা যায় ।বিষয় ভিত্তিক যেমন: উন্নয়ন, দুর্নীতি, অপরাধ, অর্থনীতি, রাজনীতি, জনসভা, সেমিনার, সাংবাদিক সম্মেলন, খেলা-ধূলা, বিনোদন প্রভৃতি। স্থান: শহরের বর, গ্রাম বাংলার খবর, বিদেশের খবর, সময় ভেদে: ব্রেকিং নিউজ বা তাৎক্ষণিক খবর, চলমান ঘটনার বর, প্রেসবিজ্ঞপ্তি, খবরের ফলো আপ বা আগে প্রকাশিত খবরের পরবর্তী খবর, গঠন অনুসারে সংক্ষিপ্ত খবর, ইন ডেপথ রিপোর্ট বা অনুসন্ধানমূলক বিস্তারিত খবর, মন্তব্য প্রতিবেদন, মতামতমূলক খবর, সাক্ষাৎকার, ফিচার প্রভৃতি



সংবাদের উৎস :
একজন সাধারণ মানুষের কাছে যদি জানতে জান সংবাদ বা খবরের উৎস কি? তারা নিশ্চয় উত্তর দিবেন: পত্রিকা, টিভি, অন লাইন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম হলো খবরের উৎস। অগ্রসর জনগণ হয় তো বলবেন, সাংবাদিক হলো সংবাদের উৎস। উদাহরণ: মাছ কোথায় পাওয়া যায়? শহরের বাচ্চার উত্তর... ( ক্লাসে বিস্তারত বলা হবে)।
একজন দক্ষ জেলে যেমন জানেন, ইলিশ মাছ আর রুই মাছ কোথায় পাওয়া যায়, একজন সাংবাদিকেও জানতে হবে কোন খবরের উৎস কি?
আমাদের চার-পাশেই ছড়িয়ে আছে খবরের উৎস। যেমন: ১. এই সমাজ ২. সমাজের মানুষ ৩. তাদের গড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান
বিট ও উৎস নির্ধারণ
একজন সাংবাদিক বা রিপোর্টারের পক্ষে সকল দিকে নজর রাখা সম্ভব নয়। তাই কে কোন দিকে নজর রাখবেন তা ঠিক করে দেয়া হয়। তাদের ক্ষেত্র বা বিট নির্ধারণ করে দেয়া হয়। যেমন: অর্থনীতি বিট। অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত বিট অর্থ মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার, পণ্যবাজার, আমদানি-রফতানি প্রভৃতি। ভালমানের মিডিয়ায় উল্লেখিত প্রতিটি বিটের জন্য আলাদা আলাদা প্রতিবেদক থাকেন।
অনুরূপভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালেয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগকে বিট বিবেচনা করে নির্ধারিত প্রতিবেদক থাকেন।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০১৫

রিপোর্ট তৈরি ও উপস্থাপন



সংবাদপত্রের সংবাদ সংক্রান্ত তিনটি বিভাগ:
 ১.সম্পাদকীয় (সম্পাদক, সহকারি সম্পাদক/ উপ-সম্পাদক, সহযোগী সম্পাদক) ২. বার্তা (বার্তা সম্পাদক, সহকারী বার্তা সম্পাদক,সহ-সম্পাদক / নিউজ-রুম এডিটর, সম্পাদনা সহকারী) ও ৩. রিপোর্টিং ( চিফ রিপোর্টার / এসাইমেন্ট এডিটর, বিশেষ প্রতিনিধি, সিনিয়র প্রতিবেদক, প্রতিবেদক বা স্টাফ রিপোর্টার)
রিপোর্টার বা প্রতিবেদন কে?


সংবাদপত্রের যিনি প্রতিবেদন বা রিপোর্ট তৈরি করেন, তিনি রিপোর্টার (Reporter)
রিপোর্টারের গুরুত্ব : AP (Associate press)
এর Founder Editor Melville E Stone
বলেছেন , An intelligent reporter is far more valuable than an intelligent editor.
গুণাবলী: News paper reporting today গ্রন্থে চার্লস সি ক্লেইন লিখেছেন 
* Any man who is sincere and earnest, not always thinking about himself, can learn to be a good reporter.

News paper reporting today  গ্রন্থে  ভাল রিপোর্টারের যেসব গুণাবলীর উল্লেখ করা হয়েছে:
১.জ্ঞানী ২. সত্য প্রকাশে আপোষহীন ৩. কৌশলী ৪.আবেগতাড়িত হবেন না ৫.হুমকি, ঘুষ, ভয়ভীতি কারণে সত্যবিচ্যুত হবেন না ৬. মানুষের মানবিক ক্রুটি বিচ্যুতির প্রতি সহানুভূতিশীল ৭. জানার দুর্বার আগ্রহ ৮. দুর্লভ মনের অধিকারী ৯. পেশার প্রতি আত্ম উৎসর্গ
সংবাদ সংগ্রহ কৌশল:
বিট নির্ধারণের পর বিটের সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহ। যেমন: অপরাধ বিট, তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থেকে নিয়ে সকল থানা পুলিশের ফোন নম্বর সংগ্রহ করা, অপরাধের ক্ষেত্র ও অপরাধীদের সম্পর্কে জানা। অর্থনীতি বিটের রিপোর্টারকে তার সংশ্লিষ্ট অর্থমন্ত্রনালয়, শেয়ারবাজার, ব্যাংক বীমা প্রভৃতি সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও বাস্তব জ্ঞান অর্জন রতে হবে ।
* সোর্স তৈরি: সোর্স হলো উৎস। স্ব স্ব বিটের তথ্য সংগ্রহ ও সহজে পাওয়ার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
   * সাক্ষাৎকার- স্টেক-হোল্ডারদের (A person, group or organization that has interest or  concern in an organization.) সাক্ষাৎকার দিতে হবে।

* প্রয়োজনে বিশেষ কৌশল :( মোনাজাত উদ্দিনের উদাহরণ, বিএমটিআই-এর ক্লাসে বিস্তারিত দিয়েছি নিশ্চয়ই মনে আছে।)

 লেখা বা উপস্থাপন কৌশল:
 মেলভিন মেল্কার তার নিউজ রিপোর্টিং এন্ড রাইটিং গ্রন্থে একটি খবরে কি কি থাকা উচিত সে সম্পর্কে লিখেছেন:
১.যথার্থতা: প্রকাশ বা প্রচারের আগেই তথ্য যাচাই করে নিতে হবে। যাকে ক্রসচেক বলা হয়।
২. সঠিকভাবে আরোপিত: সাংবাদিকের নাম,সংবাদ সূত্র সঠিকভাবে পরিচয় দিতে হবে। সূত্র গোপন থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।
৩. সমতা ও সততা: সমতা সকল ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, কোন কারণে কোন বিশেষ দিকে ঝোকে পড়া যাবে না। একটি রিপোর্টের সকল দিক ও পক্ষকে সততার সাথে তুলে ধরতে হবে।
৪.বস্তুনিষ্ঠতা: রিপোর্টার তার অনুভূতি,ইচ্ছা এবং মতামতকে রিপোর্টে তুলে ধরবেন না।
৫. সংক্ষিপ্ততা; মূল বক্তব্য দ্রুত সংক্ষেপে তুলে ধরতে হবে।
৬. মানসম্মত বর্ণনা: প্রতিটি সংবাদ কাহিনী হবে ষ্পষ্ট ,সরাসরি  ও সংগঠিত।
সত্যনিষ্ট কিছু সাধারণ নিয়ম ওয়াশিংটন পোষ্ট ডেস্ক বুক অব স্টাইলে উল্লেখ করা হয়েছে:
,কোন ষ্টোরি সত্যনিষ্ট হবে না যদি এটি তার গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য গোপন রাখে বা বাদ দেয়।
২. যদি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্যেও বদলে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য জুড়ে দেয়।
৩.যদি সচেতন বা অচেতনভাবে পাঠক শ্রোতা, দর্শকে ভুলপথে পরিচালিত করে
৪.পক্ষপাতিত্ব বা আবেগে নেতিবাচক শব্দে তুলে ধরে। স্টোরিকে দর্শক বা পাঠকগ্রাহ্য করতে প্রয়োজন নেই আরোপিত, জাঁকালো চকচকে শব্দের ব্যবহার।
 *লেখা শুরু করবেন কীভাবে?

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০১৫

আগ্রাসী বিশ্বায়ন : পরিবেশের শত্রু



আনোয়ার চৌধুরী
একবিংশ শতাব্দীতেও বিশ্বায়নের সংজ্ঞা নিয়ে সমাজ চিন্তাবিদদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বায়ন কি ধনতান্ত্রিক সমাজের বিশ্বব্যাপী আগ্রাসন? অথবা ম্যাকডোনারাইজেশন, নাকি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন? কেউ কেউ আবার সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ, বিশ্ব-বৈশ্বিকগ্রাম এসব প্রপঞ্চ দিয়েও ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্বায়নকে। বিশ্বায়ন একটি পুরনো প্রত্যয় এবং শুধু পশ্চিমাকরণ নয়। বিশ্বায়নের ঢেউয়ের ধারাবাহিকতায় জ্ঞানের বিকাশ ধর্মের প্রসার, মানুষ পণ্য, প্রযুক্তি ও ভাষার গতিশীলতায় ঊনবিংশ শতাব্দীর বহু আগেই শুরু হয়েছে। যেমন সীমান্ত ছাড়িয়ে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অন্য ধর্ম অথবা চীনে ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটে অথবা ইংরেজি সর্বজনীন ভাষায় পরিণত হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে আধুনিক রাষ্ট্র, অলিম্পিক, ইউরোপের বাইরে প্রসারিত হতে থাকে। আন্দ্রে গুন্ডার ফ্রাংক এই সময়েও বলেছেন, বিশ্বায়নের কেন্দ্রে ছিল চীন ও ভারত। বিশ্বায়নের ইতিবাচক দিক হিসেবে বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, দারিদ্র্য উপশম-নিরসন ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারকে ইঙ্গিত করা হয়। আর এর নেতিবাচক দিকগুলোর উল্লেখ বহু পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত_সেগুলো হলো সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা, দাসত্ব, সমাজে চরম অসমতা সৃষ্টি। তবে একবিংশ শতাব্দীতে এসে পশ্চিমা বিশ্বের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব হতে দেখা যায়। উদ্ভব হয় বহুজাতিক কম্পানির। বাজার ব্যবস্থার নতুন মাত্রা ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোকে শক্তিশালী করে তোলে। উত্তর-আধুনিকতাবাদী অনেক তাত্তি্বক তাই নতুন করে সমাজ সম্পর্কে তত্ত্ব দিতে শুরু করেন। বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে এ সময়ে ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারমাধ্যম। আর এ মাধ্যমে বিভিন্ন আদর্শ ও মতবাদ পুরো বিশ্বকে জয় করে নিচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে যেসব সংকট তৈরি হচ্ছে, তার পেছনে কোনো বিশ্বযুদ্ধ নেই বা তা সমাধানের জন্য কোনো একক শক্তি নেই, বরং সব নিয়ন্ত্রণ করছে প্রযুক্তি ও প্রচারনির্ভর বাজারব্যবস্থা। সংকট নিরসনে রাষ্ট্র যেন আর নিজের অবস্থানে থাকতে পারছে না। বিশ্বায়ন একটি প্রাচীন প্রক্রিয়া এবং তার কিছু সুফলও আছে। কিন্তু একটি রাষ্ট্র ও নাগরিকদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব যে বিশ্বায়নের ফলে হুমকির মুখে পড়ছে, সে প্রশ্ন কি আজও আমাদের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে না?

সোমবার, ৮ জুন, ২০১৫

পরিবেশ দিবস ২০১৫

‘শত কোটি জনের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করি না নিঃস্ব’




গত ৫ জুন পালিত হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস।এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য শত কোটি জনের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করি না নিঃস্ব। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও বাণী দিয়েছেন।

পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দেশের সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এজন্য জন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বোধ যেমন জাগিয়ে তুলতে হবে, তেমনি আইনের পরিপালনও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে সরকারের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়সহ সকল মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদ্যাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বর্তমানে সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য এ নিয়ে আলোচনা ও গবেষণাকে যেমন উত্সাহিত করেছে, তেমনি একটি কর্মকৌশলের আলোকে অভিঘাতের প্রশমন ও অভিযোজনের লক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশ পৃথিবীব্যাপি দূষণবিরোধী উদ্যোগ এবং ক্ষতিপূরণের আন্দোলনেও সোচ্চার ভূমিকা রাখছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হয়ে সুন্দর পৃথিবী গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটানো তবে তা পরিবেশের ক্ষতি করে নয় এবং কোন ভাবেই ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রয়োজনকে পাশ কাটিয়ে নয়।

১৯৭২ সালে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) উদ্যোগে প্রতি বছর ৫ জুন সারা বিশ্বের ১০০ টিরও বেশি দেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়।

জেনে হোক না বুঝে হোক নগর সভ্যতার বিকাশের নামে শিল্প-কলকারখানা গড়তে গিয়ে আমরা মানুষরা প্রতিনিয়ত নষ্ট করছি পরিবেশের ভারসাম্য। এভাবে চলতে থাকলে মানবসভ্যতা শুধু বিপন্ন নয়, হারিয়ে যাওয়ার আশংকাও অমূলক নয়। এই কথা মাথায় রেখেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গণ-সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে সর্বপ্রথম বড় আকারের আয়োজন হয় ১৯৭২ সালে। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৭২ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে পরিবেশ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরের ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসপালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয় ১৯৭৩ সালে।
জাতিসংঘ পরিবেশ প্রোগ্রাম ( ইউএনইপি) প্রতি বছর ৫ জুন সংস্থার সদস্য দেশগুলোতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করে থাকে। United Nations Environment Programme ( ইউনাইটেড ন্যাশনস ইনভারনমেন্ট  প্রোগ্রাম)  এর শ্লোগান হলো environment  for  development ( উন্নয়নের জন্য পরিবেশ)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রতি বছর পরিবেশ দিবসে একটিকে সামনে রেখে নতুন নতুন প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়। সংস্থার ওয়েব সাইটে (http://www.unep.org/wed/2015_slogan/) দেখা যায় ২০১৫ লিখে তার নীচে লেখা: টাইম ফর গ্লোবাল এ্যাকশন ফর পিপল এন্ড প্ল্যানেট। প্রতিপাদ্য: Seven Billion Dreams.One Planet./ Consume with Care. অর্থাৎ  ৭শকোটি মানুষের স্বপ্ন একটাই পৃথিবী , ত্নের সাথে ভোগ করি, ওপর ভোট নেয়া হচ্ছে।ইউএনইপির বাংলাদেশ চেপ্টার এর বাংলা করেছে,‌শত কোটি জনের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করি না নিঃস্ব অনেকে এই শ্লোগানকে এর সংক্ষেপ করে বলছেন, sustainable lifestyles. অর্থাৎ টিকসই জীবনধারা। অর্থাৎ আসুন,দীর্ঘ দিন টিকে বা বেঁচে থাকার মতো করে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন করি।